
TIN আছে, কিন্তু এখন আর প্রয়োজন নেই — কী করবেন?
অনেকেই চাকরি, ব্যবসা, ভিসা বা ব্যাংকিং প্রয়োজনে TIN সার্টিফিকেট করে থাকেন। কিন্তু সময়ের সাথে দেখা যায় সেটির আর প্রয়োজন হচ্ছে না—আয় কমে গেছে, চাকরি নেই, ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে গেছেন। তখন প্রশ্ন আসে, এখন আর প্রয়োজন না হলে TIN নিয়ে কী করা যায়?
বাংলাদেশে অনেকেই চাকরি, ভিসা, ব্যাংক একাউন্ট, ঋণ বা ব্যবসার প্রয়োজনে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (TIN) খুলে থাকেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবার আয় বা প্রয়োজন একই থাকে না—কারও আয় বেড়ে যায়, আবার কারও আয় কমে যায় বা একেবারে আয় বন্ধ হয়ে যায়। তখন প্রশ্ন আসে:
👉 TIN সার্টিফিকেট কি বন্ধ করা যায়? যদি যায়, তাহলে কিভাবে?
🔹 TIN থাকলেই কি ট্যাক্স দিতে হবে?
এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা।
- TIN থাকলেই যে কর দিতে হবে, তা নয়।
- করযোগ্য আয়সীমার নিচে থাকলে শুধু রিটার্ন (Nil Return) জমা দিলেই যথেষ্ট।
- করযোগ্য আয়সীমা (২০২৩–২৪ অর্থবছরে):
- সাধারণ করদাতা → বছরে ৩,৫০,০০০ টাকা
- মহিলা ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে → ৪,০০,০০০ টাকা
- প্রতিবন্ধী/তৃতীয় লিঙ্গ → ৪,৭৫,০০০ টাকা
- গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা → ৫,০০,০০০ টাকা
🔹 টিন সার্টিফিকেট কখন বাতিল করা যায়?
বাংলাদেশ সরকার ছয়টি শর্ত নির্ধারণ করেছে, যেসব ক্ষেত্রে TIN নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যাবে:
- কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলে।
- করদাতার মৃত্যু, অবসায়ন বা বিলুপ্তি ঘটলে।
- স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে গেলে এবং দেশে আয় না থাকলে।
- ডুপ্লিকেট বা একাধিক TIN পাওয়া গেলে।
- করদাতার আইনি মর্যাদা পরিবর্তন হলে (যেমন কোম্পানি লিকুইডেশন)।
- অন্য কোনো আইনানুগ কারণে বাতিলের প্রয়োজন হলে।
🔹 কারা টিন বাতিলের আবেদন করতে পারবেন?
- যাদের বার্ষিক আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেছে।
- যাদের চাকরি বা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।
- যারা স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে গেছেন।
- যারা ভুলবশত বা ডুপ্লিকেট TIN খুলেছেন।
- করদাতার মৃত্যু ঘটলে উত্তরাধিকারীরা।
🔹 টিন বাতিলের ধাপ
ধাপ–১: রিটার্ন দাখিল
TIN বাতিলের আগে অন্তত দুই বছর Zero Return (Nil Return) জমা দিতে হয়।
তৃতীয় বছরে বাতিলের আবেদন করা যাবে।
ধাপ–২: লিখিত আবেদন
- উপকর কমিশনার (Deputy Commissioner of Taxes) বরাবর আবেদন করতে হবে।
- আবেদনে উল্লেখ করতে হবে:
- কেন TIN নেওয়া হয়েছিল,
- এখন কেন প্রয়োজন নেই,
- বর্তমান আয় করযোগ্য সীমার নিচে আছে।
ধাপ–৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- TIN সার্টিফিকেট কপি
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কপি
- সর্বশেষ Nil Return রিসিট
- প্রয়োজনে আয় না থাকার প্রমাণ/অ্যাফিডেভিট
ধাপ–৪: যাচাই প্রক্রিয়া
- ট্যাক্স অফিস আপনার তথ্য যাচাই করবে।
- প্রয়োজনে Inspection বা Hearing হতে পারে।
- সবকিছু সঠিক হলে TIN সার্টিফিকেটের কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হবে।
- এরপর আপনাকে একটি TIN Cancellation Letter প্রদান করা হবে।
🔹 বিশেষ উদাহরণ
- আয় কমে গেলে → TIN রাখতে পারেন, শুধু Nil Return জমা দিতে হবে।
- মৃত্যুর পর → উত্তরাধিকারীরা প্রয়োজনে বাতিলের আবেদন করতে পারবেন। তবে বাবার নামে ব্যবসা থাকলে জটিলতা এড়াতে সক্রিয় রেখে রিটার্ন জমা দেওয়া যেতে পারে।
- ডুপ্লিকেট TIN → ভুল/ডুপ্লিকেট TIN বাতিল করতে হবে।
🔹 পরামর্শ
- হুট করে TIN বাতিল করবেন না। চাকরি, ভিসা, ঋণ, জমি রেজিস্ট্রেশন, বিভিন্ন সরকারি সেবায় TIN অপরিহার্য।
- যদি ভবিষ্যতে কাজে লাগার সম্ভাবনা থাকে, তবে বাতিল না করে শুধু Nil Return জমা দিয়ে রাখুন।
- একেবারেই নিশ্চিত হলে যে প্রয়োজন হবে না, তখন বাতিল প্রক্রিয়ায় এগোতে পারেন।
✅ সংক্ষেপে
- TIN থাকলেই কর দিতে হবে না, তবে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
- আয় করযোগ্য সীমার নিচে গেলে শুধু Nil Return যথেষ্ট।
- অন্তত দুই বছর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর উপকর কমিশনার বরাবর আবেদন করে TIN বাতিল করা যায়।
- বাতিলের জন্য TIN সার্টিফিকেট, NID, Nil Return রিসিটসহ আবেদন জমা দিতে হবে।



